নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:৩০, ২২ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রমিককে গ্রেফতার করা হয়। এসআরবি-১৪-এর সদর কোম্পানি ও সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের সঙ্গে এসআরবি-৭-এর সিপিসি-৩, চান্দগাঁও, চট্টগ্রামের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে সখিপুর পৌরসভার কলেজ মোড়-মিলপাড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ প্রতিদিনের মতো ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে ভাড়ায় চালাতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় মামলা করা হয়।
নিখোঁজের ২৩ দিন পর ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করে এসআরবি। ওই সময় মামলার অন্যতম আসামি শাহীন (৩০) ও হাবিবকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়। শাহীনের দেখানো স্থান থেকে সবুজের পরিহিত শার্ট, স্যান্ডেল এবং বন্য প্রাণীর খেয়ে ফেলা মরদেহের অবশিষ্টাংশ হিসেবে মাথার খুলি, চুল ও হাড় উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, ২১ অক্টোবর নেত্রকোনার মদন এলাকা থেকে নিহত সবুজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোনের তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক প্রমিক মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের হালিশহরের নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রমিক জানিয়েছেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজকে অপহরণ করে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গভীর জঙ্গলে ফেলে রাখা হয় বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
গ্রেফতার প্রমিক মিয়াকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।