আলিফ আহমেদ, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬:১৩, ২২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশে মদ্যপানের পারমিট প্রদান ও বারকেন্দ্রিক কার্যক্রম ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বারে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত শর্ত যথাযথভাবে যাচাই না করেই বিভিন্ন ব্যক্তিকে মদ্যপানের পারমিট পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত বিভিন্ন টিকটকার, ভার্চুয়াল পরিচিতি এবং তরুণীদের পারমিট দিয়ে বারের ফ্লোরে গ্রাহকদের মনোরঞ্জনের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৃত প্রয়োজন বা প্রযোজ্য আইনগত যোগ্যতার পরিবর্তে আর্থিক লেনদেনকে প্রাধান্য দিয়ে কিছু ক্ষেত্রে পারমিট সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত অ্যালকোহল ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মদ্যপানের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারি তদারকি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পারমিট প্রদানে কী বলছে আইন?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ১১ ধারা অনুযায়ী, পারমিট ছাড়া অ্যালকোহল পান করা যায় না। একই ধারায় মুসলিম ব্যক্তিকে অ্যালকোহল পান করার পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অন্যূন সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্রের শর্ত রয়েছে।
এ ছাড়া মদ্যপানের পারমিটের আবেদন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এবং প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে পারমিট ইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে,উত্তরা, গুলশান, কিছু বারে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে পারমিট সংগ্রহের সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া পারমিট পাওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিনোদনের আড়ালে পারমিট ব্যবহারের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, কিছু বার কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তি ও তরুণীদের মদ্যপানের পারমিট পাইয়ে দিয়ে বারের ফ্লোরে গ্রাহকদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত করছেন। অভিযোগের একটি অংশে বলা হচ্ছে, এ ধরনের ব্যবস্থার পেছনে আর্থিক স্বার্থ কাজ করছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পারমিট প্রদানের উদ্দেশ্য কি আইনসম্মত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, নাকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বারের ব্যবসায়িক স্বার্থে এর অপব্যবহার হচ্ছে?
তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
মদ্যপানের পারমিট প্রদান ও বার পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ সত্য হলে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ছাড়া পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে থাকলে, কোন প্রক্রিয়ায় তা সম্ভব হলো এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বার্থ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অগ্রযাত্রা প্রতিদিন তদন্তে যা পেল শুধু মাত্র এন আই ডি কার্ড আর টাকা হলেই মিলছে এই পারমিশন, বিভিন্ন তরুনীদের হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার প্রলোভনে ফেলে বারের ফ্লোরে ডান্স, একান্তে সময় কাটানোর ব্যবস্থা, দেহব্যবসার ব্যপকভাবে প্রসার ঘটাচ্ছে, সে সকল তরুনী আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না, আর কিছু তরুনীর টার্গেটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুন, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যাক্তিগন।
আইনের প্রয়োগ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য পারমিট প্রদান থেকে শুরু করে বার পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পেলে এ খাতে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যেমন নির্ধারণ করা যাবে, তেমনি আইনসম্মত কার্যক্রমও সুরক্ষিত থাকবে।