মোঃহাবিবুর রহমান, সেনবাগ (নোয়াখালী)
প্রকাশ: ১৫:৫৪, ২ নভেম্বর ২০২৬
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবার জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক কারবারিরা। ভেতরে মুমূর্ষু রোগী সেজে থাকার আড়ালে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রাজধানী ঢাকায় পাচার হচ্ছিল নিষিদ্ধ মাদকের বড় চালান।তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের সময় দাউদকান্দিতে বিপুল পরিমাণ স্কাফ সিরাপসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয় সোমবার (০২ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ০৭:১৫ ঘটিকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের এই অভিযানে আটক হওয়া দুই যুবকই কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে প্রথমজন হলেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া (কাজীবাড়ি) এলাকার মোঃ শহিদুল্লাহর ছেলে মোঃনাহিদ (২৬),তার মাতার নাম মীনা আক্তার। অপর আটককৃত যুবক হলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাহির গোড়া (ইদ্রিস চেয়ারম্যান বাড়ি) এলাকার আবু জাফরের ছেলে আব্দুর রহিম মুন্না (২৬),তার মাতার নাম নিলুফা বেগম।
দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে জরুরি সেবার একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাদকের একটি বড় চালান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে— এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে।এই তথ্যের ভিত্তিতে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিশেষ নির্দেশনায় সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রেজওয়ানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে ওত পেতে থাকে।সকাল সোয়া ৭টার দিকে ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স টোল প্লাজার সামনে পৌঁছালে সেটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সটিকে থামানোর সংকেত দেয়। গাড়িটি থামানোর পর ভেতরে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশ কর্মকর্তাদের।দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রোগী পরিবহনের নামে সম্পূর্ণ বিশেষ কায়দায় ও সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক।পরে সেখান থেকে গণনা করে মোট ৬৭২ বোতল স্কাফরসিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পাচারে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গাড়ি থাকা নাহিদ ও মুন্নাকে আটক করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়,মহাসড়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি এড়াতে তারা এই অভিনব পদ্ধতি বেছে নিয়েছিল। জরুরি সেবার গাড়ি হওয়ায় সাধারণত অ্যাম্বুলেন্সকে পুলিশ সহজে তল্লাশি করে না— এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।তারা কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এই অবৈধ মাদকের চালান সংগ্রহ করে ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চড়া দামে সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে স্বীকার করেছে।
দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।এই মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে আর কোন কোন গডফাদার বা হোতা জড়িত রয়েছে এবং জব্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটির প্রকৃত মালিক কে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে। আসামিদেরকে আজই বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।