গণতন্ত্রে মতামতই মূখ্য, উপেক্ষা মানেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

মোঃ মকবুলার রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ

প্রকাশ: ১০:৩২, ২৯ জুলাই ২০২৫ | আপডেট: ১২:৪৯, ২৮ আগস্ট ২০২৫

গণতন্ত্রে মতামতই মূখ্য, উপেক্ষা মানেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই হলো সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস। তারা সরকারকে নির্বাচিত করে কেবলমাত্র শাসনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের মতামত, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য।

তাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর যদি কোনো সরকার সেই জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করে, তাহলে সেটি শুধু গণতান্ত্রিক নীতিমালার সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই করে না, বরং ধীরে ধীরে নিজের পতনের পথও প্রশস্ত করে।

 

১. জনবিচ্ছিন্নতা ও আস্থার সংকট

 

জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে সরকার দ্রুতই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মানুষ তখন মনে করে, তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হচ্ছে না, তাদের সমস্যা গুরুত্ব পাচ্ছে না। এর ফলে মানুষের আস্থা হারায়, সরকারের প্রতি সমর্থন ক্ষয় হতে শুরু করে। এক সময় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া ও সুশীল সমাজ—সবার দৃষ্টিতে সরকার হয়ে পড়ে এককেন্দ্রিক, অহঙ্কারী ও অগণতান্ত্রিক।

 

২. আন্দোলন, প্রতিবাদ ও অস্থিতিশীলতা

যখন জনগণ দেখে তাদের দাবি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে, তখন তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে মত প্রকাশের পথ খোঁজে। কিন্তু সরকার যদি সেইসব কণ্ঠরোধ করে বা দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, তাহলে তা ধীরে ধীরে আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলন কখনো কখনো সহিংসও হতে পারে, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলে।

 

৩. আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা হারানো

 

একটি সরকার যদি দেশবাসীর মতামতকে গুরুত্ব না দেয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে বা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সেই সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। বিদেশি সাহায্য, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে।

 

৪. রাজনৈতিক বিকল্পের উত্থান

 

জনগণ যখন একটি সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন বিকল্প নেতৃত্বের খোঁজে থাকে। এতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত হতে থাকে, এবং জনগণের সমর্থন পেয়ে তারা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তী নির্বাচনে সেই বিকল্প নেতৃত্বের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়ে।

 

৫. শেষ পরিণতি: ক্ষমতা হারানো

 

সর্বশেষে, যদি কোনো সরকার জনগণের মতকে দীর্ঘ সময় অবহেলা করে, তাহলে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হয়। কখনো তা ঘটে বিপুল ভোটে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে, আবার কখনো ঘটে গণআন্দোলন বা রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য হয়ে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এমন বহু সরকার ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় নিজেদের অপরিহার্য মনে করলেও, জনগণের শক্তির সামনে টিকতে পারেনি।

 

উপসংহার

 

একটি সরকার যদি চায় দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য শাসন, তবে তাকে অবশ্যই জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, যে সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসে, তার প্রথম দায়িত্ব জনগণের কাছে জবাবদিহি করা। জনগণের মত উপেক্ষা করে কোনো সরকারই চিরস্থায়ী হতে পারে না। কারণ, শেষ কথা বলার অধিকার সব সময়ই জনগণের।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন