নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ: ১৫:৫৭, ১৬ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলাটি সঠিক প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি করেন। যেন এই মামলায় কোনো সাংবাদিককে অযথা হয়রানি করা না হয়। কেননা, মন্ত্রীর পরিবারের নামে যে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ করা হয়েছে তা দিনের আলোর মত পরিস্কার। সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।
আমরা এ-ও লক্ষ্য করেছি, প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে মামলার বাদী হয়েছেন একজন সাংবাদিক ও বগুড়া প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তা। বিষয়টি সাংবাদিক সমাজে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া নতুন কিছু নয়, তবে মামলার প্রকৃতি, প্রক্রিয়া এবং আইনি দিক নিয়ে জনমনে যথেষ্ট কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আমাদের জানামতে, দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১ ধারার মানহানি সংক্রান্ত অভিযোগ সাধারণত আদালতের বিচারাধীন বিষয়। এ ধরনের অভিযোগ আদালতে উপস্থাপিত হলে বিজ্ঞ আদালত প্রয়োজনবোধে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু আলোচিত ঘটনায় আদালত কর্তৃক থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিক সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আমরা বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তবে একইসঙ্গে মনে করি, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গৃহীত যে কোনো পদক্ষেপ যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং পেশাগত নিরাপত্তাকে অযথা সংকুচিত না করে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিশ্বাস করে, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার আইনগত প্রতিকার অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিকার প্রক্রিয়া যেন ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
আমরা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ন্যায্য আইনি অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ নিষ্পত্তি কামনা করছি।