টেকনাফে ডাকাতকে পদক দিলো ইয়াবাকারবারী এমপি শাহজাহান চৌধুরী
প্রকাশ: ১৪:৫৮, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১০টি ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার চিহ্নিত আসামি, সীমান্ত এলাকার আতঙ্ক কুখ্যাত ডাকাত আনোয়ার ওরফে লেডাইয়া। যার হাতে উঠেছে সম্মানের স্মারক। আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই চিহ্নিত অপরাধীকে পদক তুলে দিয়ে সম্মানিত করেছেন স্বয়ং কক্সবাজার ৪ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ যেনো অপরাধীকে অপরাধের লাইসেন্স তুলে দিয়েছেন তিনি৷ শুধু এই কুখ্যাত ডাকাতকেই নয়, টেকনাফ- উখিয়ায় মাদক কারবার, ডাকাতি, অপহরণ, কিংবা মানবপাচার, যে যতোবড় অপরাধ ই করুক না কেনো, ইয়াবা কারবারী এমপি শাহাজাহান কে মোটা অংকের টাকা দিতে পারলেই মিলবে বিএনপির দলীয় পদ, পদক সহ আরো নানান সুযোগ সুবিধা। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের টেকনাফে বইছে সমালোচনার তীব্র ঝড়।
তবে সবকিছু জানলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না স্থানীয় সাংবাদিক ও বিএনপির নেতারা, যারাই এই চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খোলে তাদের দেওয়া হয় হয়রানি মূলক মামলা, এবিষয়ে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পরে শুরু হয়েছে তোলপাড়। বেরিয়ে আসছে ইয়াবা কারবারি এমপি শাহাজাহানের একের পর এক অপকর্মের গোপন ফিরিস্তি।
কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন। এই এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে এক আতঙ্কের নাম নিয়ে দিন কাটাচ্ছে, সে হলো আনোয়ার ওরফে লেডাইয়া। লবণচাষ আর মহিষ চরানোর আড়ালে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে সে গড়ে তুলেছে আন্তর্জাতিক ইয়াবা ও অস্ত্র চোরাচালানের বিশাল নেটওয়ার্ক। হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, মানবপাচার এবং বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান খালাসের পেছনে সরাসরি হাত রয়েছে এই লেডাইয়ার। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ঝুলছে ৭ থেকে ১০টি গুরুতর অপরাধের মামলা। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর ক্ষমতার দাপট আর এমপি শাহজাহান চৌধুরীর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় লেডাইয়া আজ বেপরোয়া। রঙ্গিখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার মতো একটি পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন এক চিহ্নিত অপরাধীর হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন এই ডাকাত দলের হাতে বারবার জিম্মি হচ্ছে, ঠিক তখনই জনপ্রতিনিধির হাত থেকে তার এই পুরষ্কার গ্রহণ আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক চরম অবমাননা।
একজন কুখ্যাত ডাকাত ও মাদক সম্রাটকে কার স্বার্থে এবং কোন যোগ্যতায় প্রকাশ্যে সম্মানিত করা হলো, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অপরাধীকে প্রশাসনিক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা পুরোপুরি অপরাধীদের দখলে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
দর্শক পরবর্তী পর্বে থাকছে আরো নতুন তথ্য নিয়ে বিস্তারিত চোখ রাখুন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে....