নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৫৫, ১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (সেফটি ভালভ) পরীক্ষা মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার সফলভাবে শেষ হয়। পরীক্ষাটি মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ দুই জায়গা থেকেই পরিচালনা করা হয়।
পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মূল সেফটি ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা-বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম এবং সতর্কসংকেত পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষায় ভালভগুলোর কার্যকারিতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে।
প্রকল্পের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা হয়।
তিনি বলেন, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে সেফটি ভালভ সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এর সফল পরীক্ষা কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে এগোচ্ছে।
এর আগে সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়।
গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, ভালভের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে তখন নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার পর সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চুল্লির দুটি সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মন্ত্রী জানান, ওই মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না এবং কবে তা সম্ভব হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। এর মধ্যেই প্রকল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনাও ঘটে।
সেফটি ভালভের সমস্যা সমাধানে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি রুশ বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে আসে। বাংলাদেশি ও রুশ প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ভালভের উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এর আগে প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একটি ভালভ প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের প্রস্তাবও দিয়েছিল।
প্রথম ইউনিটের বিলম্বের প্রভাব দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং সময়সূচির ওপরও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। কারণ দ্বিতীয় ইউনিটও নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।