নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:৪৪, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস-২০২৭ উপলক্ষে বিএমইউতে আয়োজিত সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন’ বা ‘লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন’।
সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে টিএসসি প্রদক্ষিণ করে ডি-ব্লক, সি-ব্লক ও কেবিন ব্লক হয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। পরে হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর লেকচার হলে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, সোরিয়াসিস একটি দৃশ্যমান চর্মরোগ। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে অবহেলা বা বৈষম্যের শিকার হন। তবে রোগটি কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়, যাতে তাঁরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত মনে করেন।
তিনি বলেন, সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে আর্থ্রাইটিস দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ সমস্যা শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া গেলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অন্যথায় আর্থ্রাইটিস গুরুতর হয়ে হাড়, অস্থিসন্ধি ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি করতে পারে এবং স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
উপাচার্য আরও বলেন, আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুনীর রশিদ এবং সোরিয়াসিস সচেতনতা ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সামিউল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং বিএমইউর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী।
আয়োজকেরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০০ জনের বেশি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অনলাইনে যুক্ত হয়ে সোরিয়াসিসের চিকিৎসা, রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।