শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:১৮, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীতে বাংলাদেশ থেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফাউন্ডেশনের (বিটিআরএফ) নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পেশাজীবীদের নিবন্ধন ও থেরাপিস্টদের জন্য রাজস্ব খাতে পদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ফিদা আল-শামস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি এ টেইলর। এতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরএফের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ফিদা আল-শামস।
সভাপতির বক্তব্যে ফিদা আল-শামস বলেন, বিশ্বে প্রতি তিনজন মানুষের একজনকে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে রিহ্যাবিলিটেশন স্বাস্থ্যসেবা নিতে হয়। অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বাত-ব্যথা, প্যারালাইসিস, শ্রবণ ও ভাষাগত বৈকল্য, হৃদ্রোগ, স্নায়ুরোগ, অপুষ্টি এবং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় সমন্বিত চিকিৎসাসেবার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন পাস হয়েছে ২০১৮ সালে এবং এর বিধি পাস হয়েছে ২০২৫ সালে। তবে রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের নিবন্ধন ও প্র্যাকটিশনারদের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া এখনো অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এ ছাড়া রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা এখনো প্রণয়ন করা হয়নি।
রিহ্যাবিলিটেশন খাতের উন্নয়নে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে পেশাজীবীদের নিবন্ধন ও প্র্যাকটিশনারদের লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রিহ্যাবিলিটেশন চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল। এ খাতে কাজ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সরকারি অনুদান এবং উন্নত থেরাপি সরঞ্জাম কেনা ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হলে উদ্যোক্তারা আরও আগ্রহী হবেন। এতে সাধারণ মানুষও মানসম্মত রিহ্যাবিলিটেশন চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এছাড়া থেরাপিস্টদের জন্য সরকারি রাজস্ব খাতে পদ সৃষ্টি এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় নবম গ্রেডে নিয়োগের দাবি জানান বিটিআরএফ চেয়ারম্যান।
বিটিআরএফ জানায়, গত নয় বছর ধরে প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপিসহ প্রয়োজনীয় রিহ্যাবিলিটেশন সেবা মানসম্মতভাবে নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রতিষ্ঠানের থেরাপিস্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা জানানো হয়।