গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২:৪৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কাশিমপুর থানাধীন চক্রবর্তীরটেক এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন নুরু মার্কেটের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গাজী রাফেজ আহম্মেদ খুলনার পাইকগাছা থানার বাসাখালি এলাকার গাজী খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঝালমুড়ি ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে রাফেজ আহম্মেদের সঙ্গে আতাউর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আতাউর তার দোকানে মরিচ-পেঁয়াজ কাটার কাজে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি দিয়ে রাফেজের পেটের ডান পাশে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
পরে রাফেজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘটনার প্রতিবাদ করলে আতাউর তাদের ওপরও ছুরি নিয়ে হামলা চালান বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মোঃ আশরাফ আলী পীর সাহেব (৫২) ও মোঃ মুরাদ হোসেন (৩৪) নামে আরও দুজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত রাফেজ আহম্মেদকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করেন। আশরাফ আলী ও মুরাদ হোসেনকেও প্রথমে ল্যাব ওয়ান হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত রাফেজ আহম্মেদকে কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আতাউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ আটক করে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়। পরে কাশিমপুর থানার রাত্রীকালীন টহল দলের এসআই শফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আতাউর রহমানকে হেফাজতে নেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করা হয়।
আটক আতাউর রহমান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার ফলগাছা এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি বর্তমানে কাশিমপুরের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার প্রবাল হাউজিংয়ে কামাল শিকদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মো. খালিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
শীর্ষ সংবাদ: