নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ মিলল ধানক্ষেতে

মোঃআহছান উল্লাহ,কুমিল্লা 

প্রকাশ: ২০:১১, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ মিলল ধানক্ষেতে

কুমিল্লার লালমাইয়ে নিখোঁজের চার দিন পর জান্নাতুত তাজমীন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার এবং মৃত্যুর আগে বাবার ফোনে মেয়ের শেষ আকুতি—সব মিলিয়ে এই মৃত্যুকে ঘিরে চরম রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত জান্নাতুত তাজমীন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলীম রেনাটা পিএলসি, কুমিল্লায় আরএসএম হিসেবে কর্মরত এবং মা কেয়া আক্তার। পরিবারটি বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করলেও তাদের স্থায়ী ঠিকানা যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে,গত ৪ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে রেসকোর্সের বাসা থেকে বের হয় জান্নাতুত।এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে গভীর উদ্বেগ নেমে আসে।

নিহতের বাবা আব্দুল আলীম জানান মেয়ে নিখোঁজ থাকার পর এক রাতে (৪ অক্টোবর দিবাগত) ২টা ৫৮ মিনিটের দিকে জান্নাতুতের মোবাইল ফোন থেকে তার কাছে একটি কল আসে। ফোনে জান্নাতুত কান্নাকাটি করে জানায় যে তাকে কোথাও আটকে রাখা হয়েছে।সে নিজেকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য বাবার কাছে আকুতি জানায়। তবে সে ঠিক কোন জায়গায় বন্দি ছিল,তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি।এরপরই ফোনটি কেটে যায় এবং মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়।

আজ সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ধানক্ষেতের পাশে একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।খবর পেয়ে সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে লালমাই থানায় যান নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা।সেখানে গিয়ে তারা মরদেহটি জান্নাতুত তাজমীনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলের ঠিক পাশ থেকেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করেছে। নির্জন ধানক্ষেতের পাশে সিএনজিটি কেন এবং কীভাবে এলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অটোরিকশাটির সাথে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না,তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি প্রশাসন।

লালমাই থানা পুলিশ জানিয়েছে,স্কুলছাত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।রহস্যময় সেই শেষ ফোনকল এবং জব্দকৃত সিএনজির সূত্র ধরে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেছে।এদিকে সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর এমন নির্মম ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন