সফিউর রহমান সাকিব (গফরগাঁও, ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ২০:৪৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার দিবাগত রাত চারটার দিকে উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বারইহাটি গ্রামের বটতলা এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা আজিজুল হকের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হক পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ জেলায় এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা নরসিংদী ও ঢাকায় থাকেন। ঘটনার সময় বাড়িতে কেবল তাঁর ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জোয়েদা খাতুন, বোন তাসলিমা খাতুন ও এক ভাগনি অবস্থান করছিলেন।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাত চারটার দিকে তিন থেকে চারজনের একটি ডাকাতদল বাড়ির সদর দরজার তিনটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। একই সময় ঘরের বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় ছিল। ঘরের ভেতরে ঢুকেই ডাকাতেরা বৃদ্ধা মা জোয়েদা খাতুন ও গৃহকর্তার আরেক বোন আম্বিয়া খাতুনের মুখ ও হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। পাশাপাশি তাসলিমা খাতুনের গলায় ধারালো চাপাতি ধরে তাঁকে জিম্মি করে ফেলে।
পরবর্তীতে ডাকাতেরা বাড়ির তিনটি কক্ষের আলমারি ও ওয়ারড্রোবের তালা ভেঙে তছনছ করে। ডাকাতদল ঘরে থাকা তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ছয় ভরি রুপার অলংকার, জমি কেনার জন্য সংরক্ষিত নগদ ৩ লাখ টাকা, একাধিক মুঠোফোন ও মূলবান কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে চম্পট দেয়। পরিবারের দেওয়া হিসাব মতে, লুট হওয়া মালামালের সর্বমোট মূল্য প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা।
গৃহকর্তা আজিজুল হক জানান, "খবর পেয়ে ভোরে বাড়িতে এসে দেখি ডাকাতেরা ঘরের সবকিছু তছনছ করে নিয়ে গেছে। তারা বারবার জমি কেনার টাকা কোথায় রাখা হয়েছে তা জানতে চেয়েছিল। টাকা কোথায় রাখা হয়েছে তা জানাতে সামান্য দেরি হওয়ায় আমার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা জোয়েদা খাতুনকে মারধরও করেছে ডাকাতেরা।"
এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, "সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে এবং ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"