ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১:১৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬
বিথীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতরে গজ থেকে যায় এবং পরে সেটি রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন।
পরিবারের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিথীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পেটের নাড়িতে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। পরে বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে বিথীর শারীরিক অবস্থারও ব্যাপক অবনতি ঘটে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তার ওজন ছিল ৬১ কেজি; অসুস্থতার মধ্যে তা কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে।
এদিকে চার মাস বয়সী নিজের নবজাতক সন্তানকেও ঠিকমতো কোলে নিতে বা দুধ খাওয়াতে পারেননি বিথী। তার অসুস্থতার কারণে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে শিশুটি।
বিথীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, ‘বিথীর মৃত্যুর খবরটি জেনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক বিথীর শিশুটিকে দেখতে গেছেন। আমিও তার বাড়িতে গিয়ে দুইবার শিশুটিকে দেখে এসেছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’
বিথীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।