১০০ অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন দিল দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি

এস আলম, জামালপুর

প্রকাশ: ১৬:০৯, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

১০০ অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন দিল দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে জামালপুরে ১০০ জন অসচ্ছল নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি’। নারীদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা, সমাজ ও পরিবারে আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকার পথ সুগম করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

১৯ অক্টোবর (সোমবার) সকালে জামালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত এসব নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করেন জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন।

​দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব, বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক জাহাঙ্গীর সেলিম এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলে এলাহি মাকাম। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সেলাই মেশিন ব্যবহার করে নারীরা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
​সংস্থার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, একটি সেলাই মেশিন কেবল একটি উপহার নয়, বরং একটি নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। এর মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারবেন, যা পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় বড় ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে নিজেদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্য নারীদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।
​তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি বিশ্বাস করে—প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায়। কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে আমাদের এই টেকসই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
​সেলাই মেশিন পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উপকারভোগী একাধিক নারী জানান, প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও মূলধনের অভাবে তাঁরা কোনো কিছু করতে পারছিলেন না। এই সেলাই মেশিনটি পাওয়ায় এখন নিজের ঘরে বসেই উপার্জন করে পরিবারকে সাহায্য করতে পারবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন