অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে প্রবৃদ্ধির পথে ফিরবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশ: ১৬:২২, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে প্রবৃদ্ধির পথে ফিরবে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিগত সরকারের আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

আজ ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা প্রদান করেছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক মূল্যহারের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে সরকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়।

তিনি বলেন, সমুদ্র উপকূলবর্তী ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সংকট নিরসনে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।

মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতার একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস খালাসের সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে। সেখানে একটি জ্বালানি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমির খসরু বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে, যাতে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি দূর করা যায়। ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ ইকুইটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আগামীতে একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এরপর অর্থনীতি স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে এবং একপর্যায়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক। এ ছাড়া এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন