অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম

​ইয়াছিন মাহমুদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৬:১৭, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় আপন বড় ভাই ও ভাবিকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগী নারী হনুফা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযুক্তরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের শেরপুর এলাকার মৃত আমানত খানের ছেলে মো. স্বপন খান (২৫), তাঁর স্ত্রী ফারজানা বেগম (২২) এবং রতন খান (৩২)।

​অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ভিটা বাড়িতে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটত এবং পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছিল। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

​প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের ওপর আক্রোশ পুষে রাখে। এরই জের ধরে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:০০টায় দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ভুক্তভোগী হনুফার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
​হামলাকালে ১ নম্বর অভিযুক্ত স্বপন খান লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে হনুফার ঘাড়ে লেগে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ ছাড়া রতন খানের আঘাতে তাঁর ডান হাতের কনুই জখম হওয়ার পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে প্রহার ও শ্লীলতাহানি করা হয়।
​পরবর্তীতে স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে এ ঘটনার বিচার চাইতে গেলে ভুক্তভোগীর স্বামী মো. লিটন খানের ওপরও চড়াও হয় অভিযুক্তরা। তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয় এবং পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
​অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হনুফাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর স্বামীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
​বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন