সেলিনা জিন্নাত ঐশী, নোবিপ্রবি(নোয়াখালী)
প্রকাশ: ১৫:২২, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ করা পানির মান নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি বাইরে থেকে কেনা পানিতেও দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। এতে বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুধু পানির সংকটই নয়, আবাসিক ভবনটিতে নিরাপত্তা, গ্যাস ও ইন্টারনেট সেবারও বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
বাসিন্দারা জানান, ভবনটির চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। অথচ পুরো ভবনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন আনসার সদস্য। এ অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি ফ্লোরের দুই প্রান্তে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ইন্টারনেট সেবা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনে নিজস্ব ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনে এ সুবিধা নেই। ফলে বাড়তি খরচে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সেবা নিতে হচ্ছে তাঁদের।
গ্যাস সরবরাহের অবস্থাও নাজুক। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রান্নার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল লাইনে গ্যাস পাওয়া যায় না। ফলে নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবাসিক ভবনটির ৭২টি ফ্ল্যাটের মধ্যে প্রায় ৩০টিই খালি পড়ে আছে। ক্যাম্পাসের অবস্থান কিছুটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আশপাশে বাজার, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি ফ্ল্যাটের ভাড়া ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের অনেকে বিকল্প আবাসনে চলে গেছেন। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ফ্ল্যাট অব্যবহৃত থাকছে।
কোয়ার্টার্স শিক্ষক-কর্মকর্তা কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ও সহকারী অধ্যাপক জিএম রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক বছর আগে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। এর আগে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেটর চালু করা হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ পানিসহ আবাসিক ভবনের অন্যান্য সমস্যার দ্রুত ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে কোয়ার্টার্সে বিশুদ্ধ পানির সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধান প্রকৌশলী মো. জামাল হোসাইন বলেন, পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।