মো. রোকন উদ্দিন, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২৩:৫৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভুয়া ঝাড়ুদার পরিচয়ে বেতন উত্তোলন, সরকারি নথি অবৈধভাবে লেনদেন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক এক ভূমি কর্মকর্তা ও ভূমি অফিসের এক কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মিন্টু আলম নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগে পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক নাজির ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার ও ধলঘাট ভূমি অফিসের শহিদুল আলম ফরহাদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল আলম ফরহাদের মামা মো. ইউনুছ পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তাঁর প্রভাবে ২০১২ সালে ফরহাদকে ধলঘাট ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, নিয়োগের পর দীর্ঘ ১৪ বছর ফরহাদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও বেতন উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, নামজারি, বন্দোবস্তি, ডিসি এবং পাঁচ তহসিলের রেকর্ডরুমের দায়িত্বকে কেন্দ্র করে সরকারি নথি অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে ফরহাদের বিরুদ্ধে। ২৫সাল থেকে ২৬ শে ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার তাঁকে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে বাড়ি, জমি ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলে সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
মিন্টু আলমের অভিযোগ, গত ৩ মার্চ তাঁর বন্দোবস্ত-সংক্রান্ত একটি ফাইলের (স্মারক নং-৫৪১, ডকেট নং-৩০৬) বিষয়ে যোগাযোগ করলে তাঁকে ফরহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে ফরহাদ ওই কাজের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁর কাজ করা হয়নি বলেও দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ আগস্ট বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরহাদকে অফিস থেকে বের করে দেন। এরপর ফাইলের খোঁজ নিতে ফরহাদের বাড়িতে গেলে ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার ও ফরহাদ পটিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপপরিদর্শক (এসআই) সমীর ভট্টাচার্যের যোগসাজশে তাঁকে ২৬ ঘণ্টা হাজতে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন মিন্টু আলম।
অভিযোগকারী তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নয়, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব তলব করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াহিদুল্লাহ সিকদার মুঠোফোনে বলেন, “আমি মিন্টুকে চিনি না। আমি একজন মিন্টুকে চিনি, মিন্টু আলম মামলাবাজ।”
অভিযুক্ত ফরহাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।