অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। শুটিং সেটে সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে সংগঠনের সালিশি সিদ্ধান্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
গত ৪ অক্টোবর তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া অথৈর নামে পাঠানো চিঠিতে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈকে সদস্যপদ স্থগিতকরণসংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে ওই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে তারা সংগঠনের কার্যালয়ে কোনো ধরনের জবাব জমা দেননি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে বিরোধ ও দ্বন্দ্ব নিরসনে অভিনয়শিল্পী সংঘের একটি স্বাধীন সালিশ কমিটি রয়েছে। তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের সালিশের জন্য ডাকা হয়। সেখানে তাদের ক্ষমা চেয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে তারা সালিশ কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেননি। এ ঘটনায় সালিশ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের পরপর দুটি চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো চিঠিরই জবাব দেননি তারা। বরং চিঠিগুলো ফেরত আসে। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাড়া মেলেনি।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সালিশ কমিটি তাদের সদস্যপদ স্থগিতের সুপারিশ করে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে। পরে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সেই সুপারিশ গৃহীত হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের এমন আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সালিশ বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের সদস্যপদ স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই অভিনেত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে সংগঠনটি।
