চীনের পর তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:২৫, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চীনের পর তিস্তা প্রকল্পে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

চীনের পর এবার বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এর বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

মঙ্গলবার (ঢাকা) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বদ্বীপ অঞ্চলের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজের সুযোগ

বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস—উভয় দেশই বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা পর্যবেক্ষণ করছে ভারত

এই অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, তিস্তা প্রকল্পটিকে আগে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনা করা হয়েছিল।

তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে প্রকল্পটি ভারতের নজরে রয়েছে। এই অঞ্চলে বাইরের কোনো শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি, বিশেষত চীনের উপস্থিতি, ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই করিডরের কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

চীন সফরের পর যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা

গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদের পরিকল্পনা, জলপ্রবাহের পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর করতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীন তার সামর্থ্যের মধ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করবে।

জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়।

ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরে নদী পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

চীনের পাশাপাশি তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জানিয়েছে, চীনের এই সহায়তা পেলে এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব নেদারল্যান্ডসের

নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমা বলেছেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার জন্য বর্তমান সময়টি উপযুক্ত। বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন