আওয়ামীপন্থী দুই শিক্ষা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সাঈদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

মহিউদ্দিন আলম পলাশ

প্রকাশ: ১১:১৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামীপন্থী দুই শিক্ষা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও সাঈদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিতর্কিত দুই কর্মকর্তা হলেন—ঢাকা মেট্রোর সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি এবং ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ আকন্দ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের সই করা অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি ও সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসহ (কপি সংযুক্ত) অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

শিরীন শারমিন-জি এম কাদেরের ঘনিষ্ঠ শিমুল আকন্দ

তদন্তের মুখে পড়া দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন আবু সাঈদ আকন্দ। তিনি শিমুল আকন্দ নামে পরিচিত। বর্তমানে ডিপ্লোমা প্রকৌশল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য শিমুল আকন্দ। ৫ আগস্টের আগে তিনি আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। আওয়ামী লীগ আমলের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির (জাপা) বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয়ও দিতেন তিনি।

এদিকে, নানা অভিযোগের মুখে প্রধান কার্যালয় থেকে গত ৩০ জুলাই তাকে রংপুরে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় গত ৮ অক্টোবর শিমুল আকন্দ ফের তদবির করে ঢাকায় ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী।

এর আগে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতিতে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওই অঞ্চলে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আপন ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মা কনস্ট্রাকশনকে’ কাজ পাইয়ে দিতেন শিমুল আকন্দ। অনেক সময় কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও কৌশলে আগাম বিল তুলে দিয়ে ঘুষ নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, নিয়ম ভেঙে পদোন্নতিও বাগিয়ে নিয়েছেন শিমুল আকন্দ। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাতে ২৩ নম্বরে ছিলেন শিমুল আকন্দ। পদ ফাঁকা না থাকলেও এসব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে তাঁদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে পদায়ন করা হয়।

ঘুষে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মনি

ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে দীর্ঘদিন সহকারী প্রকৌশলী ছিলেন মনিরুজ্জামান মনি। ঢাকার বাড্ডার রহিমুল্লাহ মোল্লা মাদ্রাসার উন্নয়নকাজের টেন্ডার পাইয়ে দিতে দুই ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। একজনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নিলেও পরে আরেকজন আট লাখ টাকা দেওয়ায় তাকে কাজ পাইয়ে দেন তিনি।

গত ১৩ আগস্ট ঘুষ দিয়েও কাজ না পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্লাস ওয়ান ট্রেডার্স ইইডির প্রধান প্রকৌশলীকে এ নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে তা তদন্তের নির্দেশও দেন প্রধান প্রকৌশলী। তবে অদৃশ্য কারণে সেই তদন্ত থমকে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও ‘আপস-মীমাংসা’ করে লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করেন।

এদিকে, ঘুষের অভিযোগ ওঠার পর তাকে ঢাকা থেকে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি করে পাঠানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কিন্তু সেখানে যেতে শুরু থেকেই গড়িমসি করেন মনি। বাধ্য হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘নামমাত্র’ যোগদান করলেও ঢাকায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

তদবির করে ঢাকায় ‘লাভজনক’ পদ বাগিয়ে নিতে এবার একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্যের ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান মনিকে ‘বিএনপিপন্থি’ বলে উল্লেখ করেছেন ওই প্রতিমন্ত্রী ও এমপি। পাশাপাশি দুজনের ডিও লেটারের ভাষাও হুবহু একই। এ নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান বলেন, “ওই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন