নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৩০, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট (eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd) ছাড়াও নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফল দেখতে ও মার্কশিটসহ ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটে ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সরাসরি ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, যেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে সহজে ও দ্রুত ফলাফল জানা যাবে। মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—
এইচএসসি <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬ এবং তা ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
[উদাহরণ: HSC Dha ১২৩৪৫৬ ২০২৬ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।]
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফলাফল বিতরণ করা হবে না।
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের বিস্তারিত নিয়মাবলি ও ফি প্রদানের প্রক্রিয়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৩৯৩ জন। এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ ও বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।