নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬
সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক জেটি, কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ইয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় ৪৯টি যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং বছরে চার লাখ টিইইউ কনটেইনার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পণ্য ওঠানামার ব্যয় কমার পাশাপাশি কনটেইনার সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক সুবিধা তৈরি হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক, বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মশিউর রহমান খান , ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ দেশি-বিদেশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের কাছে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় এলাকায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জিয়ারত শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-সিজন ২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বাগেরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।