ভোরের মিছিলে নারী: সাভারের গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম

মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহেল, সাভার

প্রকাশ: ১১:২৩, ৮ মার্চ ২০২৬

ভোরের মিছিলে নারী: সাভারের গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম

​ভোর ৬টা। সাভারের বাসস্ট্যান্ড, আশুলিয়ার বাইপাইল বা জিরাবো এলাকা। হাজার হাজার নারীর পদচারণায় মুখরিত চারপাশ। কারও চোখে ঘুমের রেশ, কারও হাতে টিফিন ক্যারিয়ার, আবার কারও কোলে ঘুমন্ত শিশু—সবাই ছুটছেন কারখানার সাইরেনের টানে। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এই নারীদের কাছে '৮ই মার্চ' কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং বেঁচে থাকার নতুন লড়াইয়ের শপথ।

​চাকার সাথে পাল্লা দিয়ে চলা প্রতিটি নারীর জীবন,​তেমনি সাভারের একটি কারখানায় গত ১০ বছর ধরে কাজ করছেন রহিমা বেগম। আজ নারী দিবসে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তিনি বলেন,​মানুষ বলে আজ আমাদের দিন। কিন্তু আমাদের কাছে কাজই সব। কারখানায় ১০-১২ ঘণ্টা কাজ শেষে বাসায় গিয়ে আবার সংসার সামলাতে হয়। ক্লান্তি লাগে, তবে মাস শেষে নিজের উপার্জিত টাকাটা যখন হাতে পাই, তখন মনে হয় আমি কারো ওপর বোঝা নই।

​গত কয়েক বছরে দেশের পোশাক খাতে কর্মপরিবেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তবে সাভারের নারী শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন নিয়ে রয়ে গেছে কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন।

২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে সাভারের নারী শ্রমিকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তি সচেতন। তাদের হাতে এখন স্মার্টফোন, তারা বোঝেন অনলাইন লেনদেন। অনেক নারী শ্রমিক এখন কাজ শেষে ইউটিউব বা ফেসবুক দেখে নতুন নতুন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এটি কেবল তাদের আয়ের পথই সুগম করেনি, বরং আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

​সাভারের এই নারীরা কেবল সুঁই-সুতার কারিগর নন, তারা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অতন্দ্র প্রহরী। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাদের জন্য কেবল শুভেচ্ছা নয়, প্রয়োজন নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। তবেই নারী দিবসের প্রকৃত সার্থকতা আসবে।
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন