মেহরাজ রাব্বি
প্রকাশ: ২২:৫৭, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৬, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল কেবল একটি লড়াই নয়, এটি ছিল একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে লাখো মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন, যাদের সম্মান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত।কিন্তু প্রশ্ন উঠছে বর্তমান প্রজন্মকে ঘিরে।আজকের বাংলাদেশে কি আমরা সেই সম্মান ধরে রাখতে পেরেছি? নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ইতিহাসকেও ভাগ করে ফেলেছি?সম্প্রতি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেউ কেউ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে এই আন্দোলনের তুলনা করছেন, আবার কেউ সরাসরি অস্বীকার করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তুলনা একদিকে যেমন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটকে ঝাপসা করে,অন্যদিকে শহীদদের সম্মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।১৯৭১ ছিল একটি স্বাধীনতার যুদ্ধ,একটি রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম।অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার লক্ষ্য ছিল সরকার পরিবর্তন।তবে একটি জায়গায় মিল অস্বীকার করার উপায় নেই,দুই ক্ষেত্রেই মানুষ জীবন দিয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন,জীবন উৎসর্গ কি দল দেখে মূল্যায়ন করা হবে, নাকি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে?সাধারণ মানুষের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি,জুলাই সনদ এবং ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
কারণ, রাষ্ট্র যদি ১৯৭১ সালের শহীদদের সম্মান দিতে পারে, তবে সমসাময়িক আন্দোলনের শহীদদেরও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন,ইতিহাসকে দলীয়করণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে, আর জাতি বিভক্তই থেকে যাবে।বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভাজন আজ চরমে। দলীয় ট্যাগের কারণে একজনের অবদান আরেকজনের কাছে মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছে।
দেশ যদি সত্যিই জনগণের হয়, তাহলে শহীদের রক্তের মূল্যও হতে হবে সবার জন্য সমান।হানাহানি নয়, ঐক্যই পারে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুল তে।