✍️ মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: ২১:১৪, ২২ জুলাই ২০২৫
আমরা অনেকেই জীবনের শুরুতেই এমন কিছু প্রাপ্তি নিয়ে বড় হই, যেগুলোর পেছনে আমাদের নিজস্ব কোনো অবদান থাকে না।
জন্মসূত্রে পাওয়া সম্পদ, নাম, খ্যাতি কিংবা পারিবারিক ঐতিহ্য—এসবই ভাগ্যের দান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলোই কি জীবনের গর্বের মূল হওয়া উচিত?
১। প্রাপ্তি নয়, অর্জনই গর্বের কারণ
পিতা-মাতার রেখে যাওয়া বাড়িঘর, জমিজমা কিংবা টাকা-পয়সা—সবই এক ধরনের উপহার। এখানে সন্তানের নিজের কোনো কৃতিত্ব থাকে না। তাই বলবো, নিজের ভেতরের আগুন নিভিয়ে রেখো না। তুমি জন্মেছ একটি উদ্দেশ্য নিয়ে। অন্যের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে সেই উদ্দেশ্য হারিয়ে যাবে। নিজের আকাশ নিজেই খুঁজে নাও, নিজের ডানায় উড়তে শেখো।
২। নিজের শ্রমে গড়া সম্পদই আসল সম্মান
যে ব্যক্তি নিজের ঘাম ও পরিশ্রমে, সৎ পথে হেঁটে সম্পদ অর্জন করে, সে কেবল অর্থ নয়—আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিত্বও গড়ে তোলে। এই অর্জনের পেছনে থাকে নৈতিকতা, অধ্যবসায় ও অদম্য সাধনা। অন্যের সম্পদ ভোগের চেয়ে নিজের চেষ্টা অনেক বেশি শ্রদ্ধার যোগ্য।
তাই বলবো—স্বপ্ন দেখো, কিন্তু কেবল চোখে নয়, হৃদয়েও। এমন স্বপ্ন দেখো, যা তোমাকে ঘুমাতে দেবে না, যতক্ষণ না তা পূরণ করো।
৩। বংশ নয়, কাজেই আসল পরিচয়
"আমি অমুকের ছেলে", "তোমরা জানো আমার বাবা কে?"—এই ধরণের অহংকারে ডুবে থাকা মানুষদের কাছে প্রশ্ন হলো—তোমার নিজের পরিচয় কী? তোমার কাজ কোথায়? তোমার চরিত্রিক শক্তি কেমন? বংশ পরিচয় কেবল একটি সূত্র মাত্র; কিন্তু সত্যিকারের পরিচয় গড়ে ওঠে নিজের কর্মগুণে।
তুমি যদি ভালো কিছু করে যাও, একদিন তোমার নামেই হবে তোমার বংশের পরিচয়।
৪। শিক্ষা ও চরিত্রই শ্রেষ্ঠ সম্মান
ডিগ্রি থাকা মানেই শিক্ষিত হওয়া নয়। সত্যিকার শিক্ষা হলো—জ্ঞান, মূল্যবোধ এবং সততার বিকাশ। যে নিজের আদর্শে অটল, নৈতিকতায় অবিচল, সেই প্রকৃত মানুষ। প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি বাধাই হলো উপরে ওঠার সিঁড়ি। ভয় পেও না—বরং বলো: “এই তো সুযোগ, নিজেকে প্রমাণ করার।”
৫। আভিজাত্য আসে মনন থেকে, বংশ থেকে নয়
বংশের গৌরব কেবল অতীতের ইতিহাস, কিন্তু ব্যক্তি-গুণই বর্তমানের পরিচয়। যদি বাবা-মার গৌরব ধরে রাখতে চাও, তবে নিজেকে গড়তে হবে প্রথমে। নিজের সৎ আয়ে অর্জিত সুখ, আত্মপ্রত্যয় ও সংগ্রাম—এই সবই জীবনের আসল সৌন্দর্য।
আকাশে তারা হতে হলে আগে মাটিতে দৃঢ় হতে হয়।
তাই বলি, হে মানুষ! ভালোবাসা, দায়িত্ব ও পরিশ্রমকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলো। তাহলেই একদিন সবাই বলবে—"এই মানুষটা নিজের আলোয় উজ্জ্বল হয়েছে।"
৬। সম্মান মানেই অহংকার নয়
নিজেকে সম্মান করো, তবে তা যেন অহংকারে রূপ না নেয়। যে নিজের মর্যাদা বোঝে, সে অন্যকেও সম্মান দিতে জানে। এভাবেই গড়ে ওঠে এক আলোকিত সমাজ।
তোমার ভেতরেই রয়েছে এক সম্ভাবনার বিস্ফোরণ। তাই বলি—জেগে উঠো, গড়ো ভবিষ্যৎ, আর প্রমাণ করো—তুমি কেবল একজন ব্যক্তি নও, তুমি এক মহৎ সম্ভাবনা।
উপসংহার নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচো। অন্যের আলো ধার না করে নিজের আলো জ্বালাতে শেখো। কারণ নিজের চেষ্টায় গড়া পরিচয়ই সবচেয়ে টেকসই, সবচেয়ে গর্বের।
হয়ো নিজের জীবনের গর্বিত কারিগর, সমাজের গর্বিত সন্তান।