মোঃ সাব্বির আহমেদ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৬:৫১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা শফির উদ্দিন দাবি করেছেন, রাশেদসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে এবং ব্যবসার কাজে সঙ্গে থাকা সাত লাখ টাকা নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের কালমেঘ বাজারের পাশের একটি ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাশেদ দুওসুও ইউনিয়নের সনগাঁও গ্রামের রেজাউল করিম চৌধুরীর ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শফির উদ্দিন একই গ্রামের আতিবুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাশেদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক বিরোধের কারণে শফির উদ্দিন, খালেকসহ তাদের লোকজন তাকে একাধিকবার হামলার শিকার করেছেন। সম্প্রতি তাকে সাত দিনের মধ্যে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শফিরের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। বিষয়টি তিনি বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান। পরদিন মঙ্গলবার স্থানীয় একটি ইটভাটার কাছে গেলে শফির উদ্দিন, মোবারক, আজিজ, আব্দুল খালেক, দেলোয়ার ও শফিরের ছেলে আকাশসহ ১৫-২০ জন তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ বলেন, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে রামদা ও চাইনিজ কুড়াল ছিল। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কোপানো হয়। পরে খবর পেয়ে তার মা সালেহা বেগম অটোরিকশায় ঘটনাস্থলের দিকে গেলে অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদের দাবি, তাদের মধ্যে কোনো জমিজমা বা পারিবারিক বিরোধ নেই। রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই তার ওপর হামলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফির উদ্দিন। তিনি বলেন, খোঁচাবাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাশেদুজ্জামানসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তার পা ভেঙে যায় এবং সঙ্গে থাকা ব্যবসার সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
শফির উদ্দিন আরও দাবি করেন, তিনি রাশেদ বা তার মাকে মারধর করেননি। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে রাশেদ অতীতে তাকে কয়েকটি মামলায় জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার বিষয়ে শফির বলেন, হাসপাতালে গেলে পুনরায় হামলার আশঙ্কা থাকায় বাড়িতেই চিকিৎসক ও কবিরাজের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতীতে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি দাবি করে তিনি থানায় বিষয়টি জানাননি বলেও উল্লেখ করেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাশেদুজ্জামান পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
তিনি আরও বলেন, শফির উদ্দিনের পক্ষ থেকে সাত লাখ টাকা ছিনতাই বা মারধরের বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।