বাঘায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

সাব্বির আহামেদ, বাঘা (রাজশাহী) :

প্রকাশ: ১৫:৫৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাঘায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামে মাদক সেবনের অভিযোগে লিখন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর লালপাগলের মোড় এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুজন পালিয়ে গেলেও লালপাগলের ছেলে লিখনকে আটক করা হয়।

পরে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদারের পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত মাদক সেবনের দায়ে লিখনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে লিখনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, পুলিশ লিখনকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অমরপুর গ্রামের লালপাগলের মোড় এলাকায় দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি চলে আসছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মাদকসেবীদের কেউ কেউ ধারালো অস্ত্র বহন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, মাদক সেবনের পর কিছু ব্যক্তি গ্রামের ভেতর দিয়ে চলাচলের সময় নারীদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। পাশাপাশি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা কয়েকটি বাড়িতে অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময় মাদক বিক্রি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবার একই কার্যক্রম শুরু হয়। তারা এলাকায় মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ থাকায় তরুণ ও শিশুদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন