অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৩১, ৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৪, ৫ নভেম্বর ২০২৬
এ ঘটনায় সামনে এসেছে একাধিক অডিও রেকর্ডিং। সেসব অডিওতে মামুনের হয়ে অর্থের দর-কষাকষি ও সমঝোতার প্রস্তাব দিতে শোনা যায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে।
মামলার বাদী ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব আলীর অভিযোগ, সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং সর্বশেষ এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি জিসান বাবুল এখনো গ্রেপ্তার হননি।
ভুক্তভোগীর সরবরাহ করা অডিও রেকর্ডিংয়ে বাবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘সে (মামুন) এক কথায় এক লাখ টাকা চাচ্ছে। এবার কী বলব বলেন? সে তো ৫০ হাজার টাকার কথাও শুনবে না।’
অন্য একটি অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ৫০ হাজার টাকা দেন, আমি হাত-পা ধরে হলেও আপনার ভিডিওর বিষয়টি মিটমাট করে নেব।’ একই কথোপকথনে ৩০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে দর-কষাকষি এবং ভিডিও মুছে দেওয়ার বিনিময়ে সমঝোতার কথাও রয়েছে। এসব কথোপকথনে বাবুলকে মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ ও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে শোনা যায়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে আব্দুল্লাহ আল মামুনের। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ভিডিও তৈরি করে আলোচনায় আসেন তিনি। ছাত্রদল নেতা জিসান বাবুলসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।
নির্মাণাধীন সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কালিগঞ্জ ও দেবহাটার কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিম্মি করে অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে। পারুলিয়ার একটি ক্লিনিকে অর্থ দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁকে স্থানীয়দের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কারণে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে সাহেব আলী তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক স্ত্রী তাঁদের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অভিযুক্তরা সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বাদীকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখান।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। পরে ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন বাদী।
সাহেব আলীর দাবি, প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবির পরিমাণ তিন লাখ এবং একপর্যায়ে এক লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বাদী। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১ নভেম্বর সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করেন। এতে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামি, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় এবং বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীকে তৃতীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান ফরহাদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দলের নাম করে কোনো অপকর্ম মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।