নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:২১, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিলের নিলাম ডেকেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ট্রেজারি বিলের বিপরীতে মোট ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে গতকাল পর্যন্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। আজকের নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হলে মাসটিতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরে সাড়ে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল সরকার।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘রোববার তথা ১ নভেম্বর সরকার নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করবে। এজন্য বাড়তি টাকার প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের নিলাম আহ্বান করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা।বাড়ছে ঋণের সুদহারসরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ বাড়ায় ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২৬ অক্টোবর তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ডও বেড়েছে।
অথচ ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ রেকর্ড ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত আগস্ট শেষে এ পরিস্থিতি দেখা যায়। বিপুল তারল্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়ায় বিল-বন্ডের সুদহার বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় সরকারের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে। সুকুকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বাড়লে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।রাজস্ব ঘাটতিতে বাড়ছে ব্যাংকনির্ভরতাচলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। প্রত্যাশার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেও ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশন বাবদ চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। এতে আগামী দিনগুলোতে সরকারের অর্থায়নের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।