নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:০১, ৫ অক্টোবর ২০২৬
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামীকালের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা আপাতত তাদের কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
তবে হামলার ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পার হলেও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বর্তমানে ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বিকেলে ক্যাম্পাসে ফিরলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভিসি স্যার ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বিকেলে আসবেন। তারপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
এদিকে, হামলার প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
হামলার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা, দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল করা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন- এমন কেউ হামলায় জড়িত থাকলে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
এর আগে হামলার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে এসব দাবি জানানো হলে মামলা করার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। সেই আশ্বাসের পর রাতের মতো কর্মসূচি থেকে ফিরে যান তারা। তবে তদন্ত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য দাবিতে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা ও তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে দেওয়া আশ্বাসের বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সাংবাদিকরা।