‎ইউজিসির গবেষণা নির্দেশিকা প্রত্যাখ্যান করে পাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

‎পাবিপ্রবি প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ২০:৩৪, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬

‎ইউজিসির গবেষণা নির্দেশিকা প্রত্যাখ্যান করে পাবিপ্রবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

‎বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গবেষণা অর্থায়ন পরিচালনার সাধারণ নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর বৈষম্যমূলক বিধান প্রত্যাহার এবং গবেষণায় শিক্ষকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষকরা।

‎সোমবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
‎
‎মানববন্ধনে শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান নির্দেশিকায় গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা ও গবেষণা অর্থায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পদমর্যাদা এবং পিএইচডি ডিগ্রিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় অনেক সম্ভাবনাময় গবেষক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা শুধু একজন শিক্ষকের পদমর্যাদা দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। গবেষণা প্রস্তাবের মান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান, পূর্ববর্তী গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, দল পরিচালনা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার দক্ষতাও গবেষণা সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, নির্ধারিত গবেষণা-যোগ্যতা অর্জনকারী প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের শুধু পদমর্যাদার কারণে গবেষণা প্রকল্পের প্রধান (প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর) হিসেবে আবেদন থেকে বাদ দেওয়া হলে সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষকদের গবেষণার সুযোগ সীমিত হবে। একইভাবে, পিএইচডি ডিগ্রি না থাকায় অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়াও যৌক্তিক নয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
‎
‎এ সময় শিক্ষকরা বলেন, পাবিপ্রবিতে ২১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশের পিএইচডি ডিগ্রি নেই। পিআই হিসেবে আবেদনের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হলে অনেক যোগ্য শিক্ষক স্বাধীনভাবে গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। পিএইচডি গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হলেও কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার সক্ষমতা মূল্যায়নে শুধু পিএইচডিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। 
‎
‎মানববন্ধনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস.এম. শাহেদুল আলম, সহকারী অধ্যাপক আশিকুর রহমান অভি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক ড. নাফিস হোসাইন, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুন, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খায়রুল আলম এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বক্তব্য দেন।
‎
‎সহকারী অধ্যাপক আশিকুর রহমান অভি বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। ইউজিসি গবেষণা প্রস্তাবনা মূল্যায়নের জন্য যে নীতিমালা জারি করেছে, আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। তবে নীতিমালাটিতে বেশ কিছু অসংগতি রয়েছে। এর ফলে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপকসহ কিছু ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপকেরাও গবেষণার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হবেন। আমার বিভাগে কোনো শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রিধারী না হলেও আমাদের গবেষণা কার্যক্রম থেমে নেই; বরং অনুষদের মধ্যে আমাদের গবেষণাই বেশি। তাই আমরা চাই, দ্রুত এই নীতিমালা বাতিল বা সংশোধন করে তরুণ গবেষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করা হোক।”
‎
‎অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক হিসেবে ইউজিসির প্রস্তাবিত এই নীতিমালার বিষয়ে আমি আপত্তি জানাচ্ছি। বিশেষ করে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের গবেষণা গ্রান্টের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে বিষয়টি বলা হয়েছে, আমি মনে করি এটি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে।
‎
‎এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা যারা মফস্বল অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি, তারা এমনিতেই গবেষণার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ও সুযোগ-সুবিধার সংকটের মধ্যে কাজ করি। তারপরও যদি গবেষণা গ্রান্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে বৈষম্য তৈরি করা হয়, তাহলে অনেক শিক্ষক গবেষণা কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়বেন। আমরা চাই গবেষণায় প্রতিযোগিতা হোক যোগ্যতা, গবেষণার মান ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে; কোনো নির্দিষ্ট ডিগ্রির ভিত্তিতে শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে নয়।”
‎
‎মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে চার দফা দাবি ও সুপারিশসংবলিত স্মারকলিপি দেন। দাবিগুলো হলো—
‎
‎১. প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ সব পর্যায়ের শিক্ষকদের PI হিসেবে আবেদন করার সমান সুযোগ দেওয়া এবং গবেষণা অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা ও গবেষণা প্রস্তাবের মানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা।

‎২. পিএইচডিবিহীন অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য না করে তাঁদের প্রকাশনা, গবেষণা অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও গবেষণা প্রস্তাবের মান বিবেচনায় নেওয়া।
‎
‎৩. শিক্ষকের পদমর্যাদার পরিবর্তে প্রমাণিত গবেষণা-যোগ্যতা ও গবেষণা প্রস্তাবের মানকে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি করা।
‎
‎৪. নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা ও পূর্ববর্তী গবেষণা অনুদান ব্যবস্থার নজির বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করা এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে শিক্ষক-গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা।
‎
‎

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন