চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস বন্ধের শঙ্কা, সংকটে পৌনে ৩শ’ রোগী

মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৬:১২, ৮ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডায়ালাইসিস বন্ধের শঙ্কা, সংকটে পৌনে ৩শ’ রোগী

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘স্যান্ডোর কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার’-এর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোর পরিচালিত কেন্দ্রটির চুক্তির মেয়াদ আগামী ২৯ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। এরপর কেন্দ্রটি চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নিয়মিত চিকিৎসা নেয়া ২৭৬ জন কিডনি রোগী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সেন্টারে বর্তমানে ১৮১ জন হেপাটাইটিস নেগেটিভ এবং ৯৫ জন পজিটিভ রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। বিশেষ করে হেপাটাইটিস পজিটিভ রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য চট্টগ্রামে বিকল্প কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে এসব রোগীর চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রটি বন্ধ হলে সেখানে কর্মরত ৪৫ জন অভিজ্ঞ কর্মীও কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্যান্ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক তায়েফ রহমান বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও আগামী ২৯ নভেম্বরের পর কেন্দ্রটি কীভাবে চলবে কিংবা আদৌ চলবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
তবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) মাধ্যমে চমেক হাসপাতালে ৩১টি এবং ন্যাশনাল কিডনি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সরকারি ক্রয় ও নতুন মেশিন স্থাপনের মধ্যবর্তী সময়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা কীভাবে সচল রাখা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন ডায়ালাইসিস কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে স্যান্ডোরের কার্যক্রম বন্ধ হলে অতিরিক্ত খরচ দিয়ে বেসরকারি বা অন্যত্র চিকিৎসা নেয়া অনেক রোগীর পক্ষেই সম্ভব হবে না।
এ অবস্থায় নতুন সরকারি সেটআপ চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্যান্ডোর কেন্দ্রের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ মার্চ চমেক হাসপাতালের নিচতলায় ৩১টি মেশিন নিয়ে স্যান্ডোর কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে স্যান্ডোরের পাশাপাশি চমেক হাসপাতালের নিজস্ব ২০টি মেশিনে আরো ৯০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন