৬৪ জেলার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তে শীর্ষে পিরোজপুর

‎জাকির ফরাজী, পিরোজপুর

প্রকাশ: ১৯:৩৩, ১২ অক্টোবর ২০২৬

৬৪ জেলার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তে শীর্ষে পিরোজপুর

‎পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কোনোভাবেই থামছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি বছরে জেলার সদর হাসপাতালসহ সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৬২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রায় ২০০ ডেঙ্গু রোগী। এ পর্যন্ত এ জেলায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পিরোজপুর শীর্ষে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বরিশাল বিভাগের এ জেলায় ডেঙ্গুর বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জন, নেছারাবাদে ৩৪ জন, কাউখালীতে ১৭ জন, ভান্ডারিয়ায় ৩৬ জন, মঠবাড়িয়ায় ৭ জন এবং ইন্দুরকানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন ভর্তি রয়েছেন।
‎
‎চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৪২৭ জন। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ছে চাপ।
‎
‎হাসপাতালে বাড়ছে উদ্বেগ
‎
‎ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি ও চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিয়ে তাঁদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
‎
‎এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‎
‎ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
‎
‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম।
‎
‎চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন কমানো সম্ভব।
‎
‎জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
‎
‎নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
‎
‎পিরোজপুরে ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়ালেই হবে না; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।
‎
‎সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন