বেগমগঞ্জে পাঠাগারকে ভোটকেন্দ্র,ঘুষ নিলেন নির্বাচন কর্মকর্তা! 

খোরশেদ আলম, নোয়াখালী 

প্রকাশ: ১০:৫১, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বেগমগঞ্জে পাঠাগারকে ভোটকেন্দ্র,ঘুষ নিলেন নির্বাচন কর্মকর্তা! 

ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য বলছে,বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র হিসেবে সর্বশেষ ২০২২ সালে ও তার আগের ইউপি নির্বাচনে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ব্যবহৃত হয়েছে। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার এটি এখান থেকে সরিয়ে ধ্রুবতারা পাঠাগারকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে আরেক আবেদনে এর পরিবর্তে ইউছুফ আলী তা’লীমুল কোরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, নতুন নির্ধারণ করা বর্তমান কেন্দ্রটি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং একটি চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে হওয়ায় নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি পাঠাগারটির অবকাঠামোও পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হলে ভোটকেন্দ্রটি নিয়ে অভিযোগ করা মো. শাহ আজিম বলেন, ভোটকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়েছে যে, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তাই এমনটি করা হয়েছে।তবে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর করতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।  পাঠাগারটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। আর এতে মাত্র একটি দরজা আছে। আর ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। তাই এটি কীভাবে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সেটি বোধগম্য হচ্ছে না। সে কারণে আমরা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। আগের মতো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ভোটকেন্দ্র করলেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে ধ্রুবতারা পাঠাগার-কে নতুন ভোটকেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই কেন্দ্রটি পরিবর্তন করেছেন।কেন্দ্র স্থানান্তরের পর ভোটার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আরেকটি পাল্টা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। 

আবেদনকারীদের দাবি, নতুন নির্ধারিত ধ্রুবতারা পাঠাগার কেন্দ্রটি মূলত ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং একটি নির্দিষ্ট চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়ির ঠিক সামনে অবস্থিত। এর ফলে নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং কেন্দ্রের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে এলাকায় সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

কুমিল্লা নির্বাচন আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ভোট কেন্দ্র স্থানান্তর নিয়ে তিনি তদন্ত করেছেন। অতি শীঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করবেন। 

এ বিষয়ে কথা হলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে আবেদন আসছে। যৌক্তিকতা থাকলে আবেদন পুনির্বিবেচনা করা হবে।


বেগমগঞ্জ নির্বাচন কর্মকর্তা বলবুল আহমেদ বলেন,তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি কোন অনিমের সাথে জড়িত নন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েকবার তদন্ত করেছেন। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন