অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত বিএনপি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৫৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬

অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত বিএনপি: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত রয়েছে বিএনপি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। এরপর পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বন্দি করে রাখা হয়। ওই সময় দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ২, ৩ ও ৪ নভেম্বর দেশ এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যায়। আবারও বাকশাল প্রতিষ্ঠা হবে কি না, নাগরিকদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হবে কি না—এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন করে পথের দিশা পায়।

রিজভী আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ পায়। এরপর শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথে এগিয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা অর্জন করে। তাঁর নেতৃত্বেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের থাবায় পড়বে না, দেশের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হবে—এমন অঙ্গীকার নিয়েই ৭ নভেম্বরের পর গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় বাংলাদেশ গড়ে তোলার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

রিজভী বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে থাকেনি। চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। তবে ৭ নভেম্বরের চেতনা, স্বাধীনতা রক্ষা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় জাতি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৯ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও এই চেতনা জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে।

রিজভীর অভিযোগ, ২০০৯ সালে আবারও বাকশালের নতুন রূপ তৈরি করা হয়। জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ভয়ংকর ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি তৈরি করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, এমনকি রাস্তায় চলাফেরা করতেও ভয় পেত।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যুগান্তকারী গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে। এই আন্দোলনের পেছনেও ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের তিনটি মূল অঙ্গীকার—স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র। এই প্রত্যয় নিয়েই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের মানুষ অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে একটি জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি মানুষকে কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন না। বিনামূল্যে সার বিতরণ, কৃষক ও হতদরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গত ৭-৮ মাসেই প্রায় হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, কোথাও কোথাও গলিতে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। এ অবস্থায় কেউ চোখ বন্ধ করে ভিন্ন কথা বললে কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে জনগণ তা পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতির চেতনায় উজ্জীবিত। সেই চেতনায় বলীয়ান হয়ে সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন