নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:৫৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথই সিরাতুল মুস্তাকিম ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ। এ পথ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমেই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা উম্মতের কাছে পৌঁছেছে। যারা এ পথে থাকবে, তারাই নাজাত পাবে।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী উম্মতের মধ্যে ৭২টি ভ্রান্ত ফিরকার আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শের বিস্তার ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করার বক্তব্যের সমালোচনা করে হেফাজত আমির বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার বিধানসহ ইসলামের মৌলিক আমলগুলো সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতি সাহাবিরা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা উম্মতের কাছে বর্ণনা করেছেন। তাই সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করলে দ্বীনের ধারাবাহিকতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আথলা মওদূদীর চিন্তাধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মওদুদী সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানতে চাননি। তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ইসলামের প্রচলিত আকিদা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলন বৃহস্পতিবার বাদ ফজর শুরু হয়। আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দেশবরেণ্য আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন।