সাদ্দাম হোসেন
প্রকাশ: ১৬:১৪, ২২ অক্টোবর ২০২৬
দেশের সরকারি কলেজগুলোতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে কর্মরত অস্থায়ী ও বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি উঠেছে। দীর্ঘ ২০ থেকে ৩৫ বছর ধরে চাকরি করেও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ । তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করলেও চাকরির নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।
সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক ও আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মো: ফরিদুল ইসলাম অগ্রযাত্রা প্রতিদিন কে জানান, দেশের প্রায় ৩৫০টি সরকারি কলেজে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে তাঁরা কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় না নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একই পদে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে বঞ্চনা ও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
সংগঠনটির সাধারন সম্পাদক মো: রুহুল আমিন সরদার বলেন, অতীতে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, অনশন ও অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেও কার্যকর সমাধান পাননি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাসে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে যা বর্তমান সময় ও দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতির বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন নয়।
সরকারি কলেজের বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: এহসানুল কবীর ১৯৯১ সালের নিয়োগবিধির প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, ওই বিধি অনুযায়ী কলেজের শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মরতদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের সুপারিশের সুযোগ ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০০৮ সালের পর কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ফলে তাঁরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের একটি স্মারক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের একটি পরিপত্রের উল্লেখ করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে অস্থায়ীভাবে নিয়োজিত জনবলের মজুরি প্রদান ও সংশ্লিষ্ট কিছু পদে অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। তবে এসব বিধান ও নির্দেশনা তাঁদের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে কর্মচারীরা তাঁদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরির অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাঁদের পরিবারগুলোও আর্থিক নিরাপত্তা পাবে।
এ অবস্থায় সরকারি কলেজে কর্মরত অস্থায়ী ও বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির ১ দফা দাবিতে আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচী, ডিজি অফিস ও সচিবাচল অভিমুখে যাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কার্যক্রমের ঘোষনা দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।