সাইফুদ্দিন হায়দার
প্রকাশ: ১৪:৩১, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে মেলা কর্তৃপক্ষ এবং লিটলম্যাগ আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করেছে তারা। রাহনুমা প্রকাশনীর প্রকাশক মাহমুদুল ইসলাম তুষার ও সন্দীপন প্রকাশনীর রোকন উদ্দীনের সঙ্গেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
ফোরাম সূত্রে জানা যায়, গত বছর মেলায় প্রকাশক ও লিটলম্যাগ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির সমাধান হলেও এর কিছুটা প্রভাব থেকে যায়। পাশাপাশি মেলায় অংশগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়েও এবার উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মেলার দায়িত্বশীল মাহমুদুল ইসলাম তুষার জানিয়েছেন, সোমবার মেলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে। সেখানে লিটলম্যাগ কর্নারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন তিনি। মেলায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার সুযোগ তৈরিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লিটলম্যাগ আন্দোলনের দায়িত্বশীলরাও বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের লিখিত সুপারিশও নেওয়া হয়েছে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম মনে করে, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো বক্তব্য বা কর্মসূচি দেওয়া থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ফোরামের সভাপতি আমিন ইকবাল বলেন, বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নার থাকা জরুরি। লিটলম্যাগ শিল্প ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নতুন লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক তৈরিতে এর ভূমিকা রয়েছে। অনেক লেখক ও সাহিত্যিকের সাহিত্যচর্চার শুরু হয়েছে লিটলম্যাগের মাধ্যমে। তাই বইমেলার পরিসর থেকে লিটলম্যাগকে বাদ রাখা উচিত নয়।
তবে নিজেদের দাবি আদায়ে তরুণ লেখক ও লিটলম্যাগকর্মীদেরও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফোরাম। তাদের বক্তব্য, দাবি ও প্রত্যাশা থাকতেই পারে, তবে তা শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে উপস্থাপন করতে হবে। বইমেলার পরিবেশ নষ্ট হয় বা প্রকাশকদের স্বাভাবিক বই বিক্রিতে বিঘ্ন ঘটে, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়।
আমিন ইকবাল বলেন, লেখক ও প্রকাশক পরস্পরের সহযোগী। লেখক ছাড়া প্রকাশকের পথচলা যেমন কঠিন, তেমনি প্রকাশকের সহযোগিতা ছাড়া লেখকের সৃষ্টিও বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছানো কঠিন। তাই সাহিত্য ও প্রকাশনার স্বার্থে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি।
বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম আশা করছে, সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক উদ্যোগে দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে এবং ইসলামি বইমেলায় লিটলম্যাগ কর্নার রাখার সুযোগ তৈরি হবে।